
মার্কণ্ডেয়র পুরাণে বর্ণিত প্রলয় আর আজকের মাল্টিভার্স – এই দুটোই কি একই কথা ?
আজকাল সবাই Multiverse নিয়ে সিনেমা বানাচ্ছেন। Doctor Strange, Spider-Man, Loki। বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন – আমাদের ব্রহ্মাণ্ড একটাই নয়, এরকম অসংখ্য ব্রহ্মাণ্ড আছে। কিন্তু এই কথাটা আজ থেকে ৫০০০ বছর আগে আমাদের পুরাণে লেখা হয়ে গেছে। ঋষি মার্কণ্ডেয়র গল্পে।
ঘটনাটা কী ছিল ?
ঋষি মার্কণ্ডেয় – যিনি অমর, যিনি কখনো মরেন না। একবার প্রলয় হলো। চারিদিকে শুধু জল আর জল। পৃথিবী নেই, আকাশ নেই, দেবতা নেই, মানুষ নেই। সব শেষ। মার্কণ্ডেয় সেই জলে ভাসছেন। হঠাৎ তিনি দেখলেন – একটা বিশাল বট পাতা ভাসছে, আর তার ওপর একটা ছোট্ট শিশু শুয়ে আছে। কী সুন্দর ! আঙুল চুষছে।
সেই শিশুটি ছিলেন বিষ্ণু।
শিশুটি মার্কণ্ডেয়কে দেখে হাসলেন, আর হাঁ করলেন। মার্কণ্ডেয় সেই হাঁ-এর ভেতরে ঢুকে পড়লেন। ভেতরে ঢুকে তিনি তো অবাক !
ভেতরে আরেকটা গোটা পৃথিবী ! নদী, পাহাড়, গ্রাম, শহর, মানুষজন, দেবতারা – সবই আছে। এমনকি তার নিজের আশ্রমটাও আছে, সেখানে তিনি নিজে তপস্যা করছেন ! তিনি সেই ব্রহ্মাণ্ডে হাজার হাজার বছর ধরে ঘুরলেন।
তারপর একদিন আবার সেই শিশুর মুখ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলেন। বাইরে এসে দেখেন – এখনো প্রলয় চলছে, বাইরে এখনো সব জলময়।
এবার শোনা যাক আধুনিক বিজ্ঞান কী বলে ?
১. মাল্টিভার্স থিওরি: বিজ্ঞান এখন বলে – Big Bang একবারই হয়নি, বারবার হয়েছে। আমাদের ব্রহ্মাণ্ড বুদবুদের মতো। এরকম অসংখ্য বুদবুদ আছে। একেকটা বুদবুদ একেকটা ব্রহ্মাণ্ড। একটার ভেতরে আরেকটা। একটার নিয়ম আরেকটার সঙ্গে মেলে না।
মার্কণ্ডেয় কী দেখেছিলেন ? একটা শিশুর ভেতরে আরেকটা গোটা ব্রহ্মাণ্ড। এটা তো মাল্টিভার্সই।
২. ব্ল্যাক হোলের ভেতরে আরেকটা ব্রহ্মাণ্ড: আইনস্টাইন বলেছিলেন – ব্ল্যাক হোলের ভেতরে সবকিছু শেষ নয়, ওটার অন্য পাশে White Hole থাকতে পারে, যা দিয়ে আরেকটা নতুন ব্রহ্মাণ্ডে যাওয়া যায়। বিষ্ণুর মুখটা কি সেই ব্ল্যাক হোলের মুখ ছিল না ? বাইরে থেকে ছোট্ট শিশু, কিন্তু ভেতরে গোটা ব্রহ্মাণ্ড।
৩. হলোগ্রাফিক ইউনিভার্স: পদার্থবিজ্ঞানী Leonard Susskind বলছেন – আমাদের এই বিশাল 3D পৃথিবী আসলে একটা 2D পৃষ্ঠের ওপর লেখা তথ্যের প্রজেকশন। যেমন একটা ছোট্ট পেনড্রাইভের ভেতরে ১০০০ টা সিনেমা আপলোড করা থাকে।
সেই শিশুটি ছিল সেই পেনড্রাইভ। তার ছোট্ট শরীরের ভেতরে গোটা ব্রহ্মাণ্ডের কোড লেখা ছিল। মার্কণ্ডেয় সেই কোডের ভেতরে ঢুকে পড়েছিলেন।
৪. প্রলয়ের জলটা কী ? প্রলয়ের যে জলের কথা বলা হয়েছে, যেখানে সবকিছু মিশে যায় – বিজ্ঞান তাকে বলে Quantum Vacuum। যেখানে কোনো বস্তু নেই, শুধু সম্ভাবনা আছে। সেখান থেকেই আবার নতুন Big Bang হয়, নতুন ব্রহ্মাণ্ড তৈরি হয়।
তাহলে ভাবুন, আমরা যেটাকে ২০২৪ সালে এসে James Webb Telescope দিয়ে খুঁজছি, সেটা একজন ঋষি চোখ বন্ধ করে ৫০০০ বছর আগেই দেখে এসেছেন। আমরা বলছি – Multiverse আছে। তিনি বলছেন – আমি একটার ভেতরে ঢুকে, আরেকটা ঘুরে এসেছি। পার্থক্য শুধু ভাষার। আমরা বলি Dimension, তিনি বলতেন লোক। আমরা বলি Multiverse, তিনি বলতেন বিষ্ণুর উদর। আমরা বলি Hologram, তিনি বলতেন মায়া।
মার্কণ্ডেয়র গল্পটা কোনো রূপকথা নয়। ওটা একজন মানুষের চাক্ষুষ ল্যাব রিপোর্ট, যিনি মাল্টিভার্সে ট্র্যাভেল করে ফিরে এসে আমাদের জন্য লিখে গেছেন, যাতে আমরা ভুলে না যাই – আমরা কতটা ছোট, আর এই সৃষ্টি কতটা বড়। একটা শিশুর হাঁ-এর ভেতরে যদি একটা গোটা ব্রহ্মাণ্ড থাকে, তাহলে আমাদের এই ব্রহ্মাণ্ডটাও হয়তো অন্য কোনো বিরাট শিশুর হাঁ-এর ভেতরে আছে। হয়তো এজন্যই কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন – “খেলিছ এই বিশ্ব লয়ে বিরাট শিশু আনমনে…..! কে জানে !!
Leave a Reply