
আকাশ, জল, বরফ, এবং পাতাল – এই চারটে সম্পদ, যার অধিকারের দরজা আজও আমাদের জন্য বন্ধ। আমরা স্কুলে পড়েছি – মানুষ পৃথিবী জয় করেছে।
এভারেস্ট জয় করেছে, চাঁদে গেছে, মঙ্গলে রোবট পাঠিয়েছে। তাহলে একটা প্রশ্ন করি – যদি সত্যিই জয় করে থাকি, তাহলে এই চারটে জায়গায় আজও আমরা ঢুকতে পারি না কেন ? এই চারটে জায়গা এই পৃথিবী নামক বাড়িটার এমন চারটে দরজা – যা হয়তো অন্য কারোর দখলে। আমরা হয়তো শুধু উঠোনের মধ্যেই খেলছি।
১. আকাশের দরজা – কৈলাস:
উচ্চতা ৬৬৩৮ মিটার, এভারেস্টের চেয়ে ২ কিমি কম। তাও আজ পর্যন্ত কেউ উঠতে পারেনি। যারা গেছে, তারা ফিরে এসেছে। কাছে গেলে কম্পাস পাগল হয়ে যায়, ঘড়ি দ্রুত চলে, ১২ ঘণ্টায় নখ-চুল ২ সপ্তাহের মতো বেড়ে যায়। চারটে দিক একদম নিখুঁত ভাবে উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিমে মুখ করা। প্রকৃতি কি এত নিখুঁত জ্যামিতি তৈরি করতে পারে ? আমাদের বিজ্ঞান বলে – “জিওম্যাগনেটিক অ্যানোমালি”। কিন্তু একই অ্যানোমালি এভারেস্টে হয় না কেন ?
২. জলের দরজা – বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল:
আটলান্টিকের একটা ত্রিভুজ। ওখানে ঢুকলে জাহাজ, প্লেন, কোনো Mayday কল ছাড়াই গায়েব হয়ে যায়। আমেরিকার নেভি ওখানে ৫টা যুদ্ধবিমান হারিয়েছে একদিনে – Flight 19। আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এর নিচে কী আছে ? কেউ বলে এলিয়েন বেস। কেউ বলে আটলান্টিসের পাওয়ার ক্রিস্টাল এখনো চালু আছে। মানুষের বিজ্ঞান বলে – “মিথেন গ্যাস”। কিন্তু মিথেন গ্যাসে প্লেন কীভাবে গায়েব হয় ?
৩. বরফের দরজা – এন্টার্কটিকা:
পৃথিবীর ৭০% মিষ্টি জল ওখানেই। কিন্তু আমরা তার ২%ও দেখিনি। স্যাটেলাইট ছবিতে ওখানে পিরামিডের মতো স্ট্রাকচার দেখা যায়। ১৯৪৭ সালে আমেরিকা অপারেশন Highjump করেছিল। ৪৭০০ সৈন্য নিয়ে এন্টার্কটিকা দখল করতে গিয়েছিল। কয়েক সপ্তাহেই ফিরে আসতে হয়েছিল, অনেক সৈন্য হারিয়ে। কেন ? কী দেখেছিল তারা সেখানে ? আজও কোনো দেশ ওখানে খনিজ তুলতে পারে না। আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ। কার আইন ? কে নিষেধ করলো ? কেন নিষেধ করলো ? আমেরিকার বিজ্ঞান বলে – “পরিবেশ বাঁচাতে”। কিন্তু আমাজন ফরেস্টের জঙ্গল কাটার সময় পরিবেশের কথা মনে থাকে না ?
৪. ভূমির দরজা – পাতাল:
আমরা ভাবি ভূমি আমাদের। আসলে আমরা এই বিশাল ভূখণ্ডের ক’ ফুটের মালিক ? রাশিয়া চেষ্টা করেছিল পাতালে যাবার। কিন্তু ১২.২ কিমি খুঁড়েই থেমে গেছে – Kola Borehole। ভেতর থেকে অদ্ভুত আওয়াজ আসছিল, যন্ত্র গলে যাচ্ছিল।
তুর্কিতে মাটির নিচে ১৮ তলা শহর আছে – Derinkuyu। ২০,০০০ মানুষ থাকতে পারতো। কে বানালো ? কবে ?
ভারতে পাতাল ভুবনেশ্বর, আমেরিকায় Grand Canyon-এর নিচে গোপন গুহা – যেখানে মিশরের মতো মূর্তি পাওয়া গেছে বলে CIA ফাইল বন্ধ করে দেয়।
আমাজনের ৪ কিমি নিচে আরেকটা আমাজন বইছে – Rio Hamza। আমরা জানতামই না।
তাহলে আসল গল্পটা কী দাঁড়াচ্ছে ?
আমরা পৃথিবীতে এসেছি মাত্র ২ লাখ বছর আগে। ওরা হয়তো এখানে লাখ লাখ বছর ধরেই আছে। আমরা ক্ষরা, বন্যা, ভূমিকম্পে ভয় পাই। ওরা হয়তো ওগুলো দিয়েই এনার্জি বানায়। আমরা গায়ের রং, জাত-ধর্ম নিয়ে লড়াই করি। ওরা হয়তো উন্নত প্রযুক্তির বিজ্ঞানকেই ধর্ম বানিয়ে ফেলেছে।
আমরা বাচ্চাদের মতোই উঠোনে খেলছি। ওরা বাড়ির ভেতর থেকে সব দেখছে। যতক্ষণ উঠোনে আছি, ঠিক আছে। যেই আমরা দরজার দিকে যাবো – তখনই বাধা।
কৈলাস বলে – “উপরে আসিস না।”
বারমুডা বলে – “জলে ঢুকিস না।”
এন্টার্কটিকা বলে – “বরফে আসিস না।”
পাতাল বলে – “নিচে খুঁড়িস না।”
চারটে দরজাই বন্ধ। আর আমরা ? আমরা এখনো উঠোনে দাঁড়িয়ে ভাবছি – আমরাই এই বাড়ির মালিক। ইঁদুর যেমন নিজেকে বাড়ির মালিক মনে করে, তেমনই নয় কি ?
এবার মনে মনে ভাবুন লালনের সেই বিখ্যাত গানটা – “পরের জায়গা পরের জমিন, ঘর বানাইয়া আমি রই – আমি তো সেই ঘরের মালিক নই…..!”
Leave a Reply