
পরিসংখ্যান একদিকে বলে গড় আয়ু বেড়েছে, কিন্তু সেই গড় আয়ু আসলে আজ জন্ম নেওয়া শিশুর ভবিষ্যতের হিসাব। শিশুমৃত্যু কমেছে, তাই গড় আয়ু সংখ্যায় উঁচু দেখাচ্ছে। কিন্তু কঠিন সত্য হলো – আজকের যুবক ও প্রৌঢ়দের বড় অংশ সেই প্রত্যাশিত আয়ুতে পৌঁছাতে পারে না। আমাদের জনসংখ্যার গঠন পিরামিডের মতোই; নীচে যুবকদের ভিড়, উপরিভাগে বয়স্কদের শূন্যতা।
জাপানের কথা ধরুন। সেখানে বৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা বেশি। কারণ মানুষ দীর্ঘজীবী হতে পারে। সুস্থ খাবার, নিয়মানুবর্তী জীবন, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সুরক্ষা তাদের দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করেছে। অর্থাৎ, বুড়ো মানুষের উপস্থিতি সেখানে উন্নতির প্রতীক। আর আমাদের দেশে বয়স্ক মানুষের অভাব – এটা উন্নতির লক্ষণ নয়, বরং এক ধরনের অদৃশ্য সংকট।
ভারত যদি সত্যিই যুবাদের দেশ হতে চায়, তাহলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত – যুবকদের বুড়ো হতে সাহায্য করা। মানুষ যেন সুস্থভাবে, স্বাভাবিকভাবে, ষাট-সত্তর-আশি পার করতে পারে। শুধুমাত্র গড় আয়ুর সংখ্যায় গর্ব করলে হবে না; কতজন মানুষ সত্যি সত্যিই সেই আয়ুতে পৌঁছাতে পারছে, সেটা নিশ্চিত করাটাই আসল সফলতা।
“ভারত যুবাদের দেশ” বলে আত্মতুষ্টির আগে দৃষ্টি দিতে হবে মানুষের দৈনন্দিন জীবনধারায়। খাবার দাবার, হাঁটাচলা, ঘুম, পরিবেশ, মানসিক অবস্থা – এই সবকিছুই ঠিক করতে হবে। শুধু চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধই হবে মূল শক্তি। দেশের অগ্রগতি তখনই সত্যিকারের অগ্রগতি হবে, যখন মানুষের আয়ু কাগজে নয়, বাস্তব জীবনে বাড়বে।
ভারতকে শক্তিশালী করতে হলে যুবাদের সংখ্যা নয়, বৃদ্ধদের সংখ্যাই বাড়াতে হবে। কারণ যে সমাজ তার মানুষকে বুড়ো হতে দেয়, সেই সমাজই সত্যিকার অর্থে সুস্থ, নিরাপদ আর উন্নত।
Leave a Reply