গোমাতা আমাদের, গোমুত্র আমেরিকার !



ভারতবর্ষের হাজার বছরের শাস্ত্রে গোমূত্রকে বলা হয়েছে “অমৃততুল্য”। দেহশুদ্ধি, অগ্নিদীপন, রক্তপরিশোধন – এই তিন ক্ষমতার জন্য গোমূত্রকে স্থান দেওয়া হয়েছে আয়ুর্বেদের মূল শিরায়। আধুনিক গবেষণায় তো জানা গেছে আমাদের স্বদেশী গোমুত্রের মধ্যে এমন কিছু ভালো ব্যাকটেরিয়া ও এনজাইম রয়েছে যেগুলো মানুষের গাট হেলথের জন্য একেবারেই অমৃত।
আমাদের পূর্বপুরুষরা কোনো ল্যাবরেটরির রিপোর্ট ছাড়াই শুধু প্রকৃতির ভিতর দিয়ে, উপলব্ধির শক্তিতে, এই জিনিসের গুণ চিনে ফেলেছিলেন।

কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, আমাদের দেশেরই কিছু মানুষ আজ গোমূত্রের নাম শুনলেই মুখ বিকৃত করে। যেন নিজের শিকড় ভুলে যাওয়া এক সমাজ – যার কাছে নিজস্ব জ্ঞানই ‘বোকামি’, আর বিদেশীরা যা বলে সেটাই ‘বিজ্ঞান’। একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে সমালোচনা করতে গিয়ে স্বদেশের একটি মহান ঔষধি সম্পদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো – এটা কোন ধরনের রাজনীতি ?
সবচেয়ে বিদ্রূপের বিষয় হলো, যে গোমূত্রকে নিয়ে ভারতীয় বুদ্ধিজীবীরাই কটাক্ষ করে, সেই গোমূত্র থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর আগে পেটেন্ট তুলে নিয়েছে। হ্যাঁ, একদম সত্যি কথা এটা। তাও এক নয়, একাধিক গোমুত্রের পেটেন্ট এখন আমেরিকার হাতে। গোমূত্রের বায়ো-অ্যাকটিভ অংশ, ডিস্টিলেট, এবং অ্যান্টিবায়োটিক বুস্টার হিসেবে ব্যবহারের claim, এসবের ওপর একাধিক পেটেন্ট তারা লুফে নিয়েছে। অর্থাৎ, যা আমরা অবহেলা করি, তাকেই তারা গবেষণা করে, কাগজে-কলমে চিহ্নিত করে, আইন দিয়ে নিজেদের নামে লিখিয়ে নিয়েছে।

আর আমরা ? আমরা নিজের জ্ঞান সম্পদকে “গোবর-গোমূত্র” বলে ঠাট্টা করি। কারণ গোমুত্র তো গরুর বর্জ্য পদার্থ ! অথচ চরম সত্যি কথা হলো— আমাদের দেশের গোমাতার জাত (দেশি প্রজাতির গরু) এর জৈব রাসায়নিক গঠন
ইউরোপীয়/আমেরিকান গরুর থেকে আলাদা। এটাই কারণ, আয়ুর্বেদ কেবল “গোমূত্র” বলে না;
দেশি গোমূত্র বলে। পৃথিবীর অন্য দেশের গরুর মূত্রে এমন ঔষধি গুণ নেই বলেই পেটেন্ট নেওয়া হয়েছে বিশেষভাবে Indian cow urine distillate–এর ওপর।

এটাই আমাদের দুর্ভাগ্য, যা বিদেশীরা বুঝেছে,
আমরা বুঝিনি। আজ যারা গোমূত্রকে অবজ্ঞা করে, তারা হয়তো জানেই না যে তাদের এই উপহাসই বিদেশি ল্যাবকে আমাদের জ্ঞান লুঠ করতে আরও সাহসী করে তুলেছে।
ভারত সবই হারায়; কারণ ভারত নিজের জ্ঞানকে বিশ্বাস করে না। আর এই পোস্টের শেষে একটা কথাই বলতে চাই – যেদিন ভারত নিজের আয়ুর্বেদ, নিজের গরু, নিজের প্রকৃতি, নিজের শাস্ত্রকে সম্মান করতে শিখবে, সেদিন বিদেশের পেটেন্টের দরকারই পড়বে না। অমৃতকে অমৃত ভাবতে হলে
মাথা নয়, চিত্ত বদলাতে হবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More posts