Author: debnathkrishna065@gmail.com

  • এই ধরনের গুন্ডাগিরি করার সাহস পায় কীভাবে ?

    সুশাসনের রাজ্যে গড়াগাড়ি খাচ্ছে আইন: দুষ্কৃতীদের আক্রমণে আহত ১০, শিশু ও নারীসহ যাত্রীদের উপর নৃশংস হামলা

    ৯ অক্টোবর, আগরতলা: রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলার চিত্র যেন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠল বুধবার দুপুরে। বিশ্রামগঞ্জ থানাধীন দেওয়ান বাজারে রাষ্ট্রপতি কালারস প্রাপ্ত এক নৃপুংসক পুলিশকর্মীর সামনেই ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত প্রকাশ্যে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে যাত্রীবাহী একটি গাড়িতে নির্বিচারে হামলা চালায়। এতে আহত হন শিশু ও মহিলা সহ অন্তত ১০ জন যাত্রী।

    জানা গেছে, সকালে বিশালগড় মহকুমার বাইদ্যারদিঘির বাসিন্দা বাপি সাহা ও সুরজিৎ সাহার পরিবারের সদস্যসহ মোট ১৬ জন মাতারবাড়ি যাচ্ছিলেন। দুপুরে তারা দেওয়ান বাজারের কাছে পৌঁছলে, আকস্মিকভাবে একদল দুষ্কৃতী গাড়িগুলোর পথরোধ করে। শুরু হয় গাড়ি ভাঙচুর ও যাত্রীদের উপর বেধড়ক মারধর।

    আহতদের দ্রুত বিশ্রামগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়, তবে কিছু যাত্রীর মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে।

    পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যদিও ঘটনার মূল অভিযুক্তদের নাম এখনও জানা যায়নি। এফআইআর দায়ের করা হলেও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ— “ঘটনাটি পুলিশের চোখের সামনেই ঘটেছে, অথচ কেউ বাধা দেয়নি।”

    এই ঘটনার পর বিরোধী দলগুলি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছে। তারা বলছে, “দিবালোকে রাস্তার ধারে নারী ও শিশুদের উপর এভাবে হামলা, আর পুলিশ নির্বিকার — এ যেন সুশাসনের এক নতুন উদাহরণ!”

    পুলিশ প্রশাসনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, “ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলছে, দোষীদের কোনও ভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না।”

  • মিষ্টি নামের তিক্ত রোগ

    **মিষ্টি নামের তিক্ত রোগ**
    — একটি জীবনবদলানো বই, যেখানে লেখা নেই শুধু চিকিৎসার কথা, 
    লেখা আছে “নিজেকে নতুনভাবে জানার” উপায়।

    যখন রক্তে মিষ্টি বেড়ে যায়, তখন তিক্ততা ছড়িয়ে পড়ে জীবনের প্রতিটি কোষে। 
    এই বইতে লেখক **যোগী কৃষ্ণদেব নাথ** দেখিয়েছেন — 
    কীভাবে ওষুধ ছাড়াও নিজের জীবনধারাকে বদলে 
    ডায়াবেটিসকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করা যায়।

    এ বই শুধু রোগমুক্তির গল্প নয় — 
    এটা এক **আত্মজাগরণের পথ**, 
    যেখানে গাট হেলথ, উপবাস, প্রোবায়োটিকস, এবং সচেতন আহার 
    শরীরকে করে তোলে এক নবমন্দির।

    📖 লেখক বলেন — 
    > “আমি ডায়াবেটিসের রোগী ছিলাম না, আমি ছিলাম নিজের অজ্ঞতার রোগী।”

    এই এক লাইনেই পুরো বইয়ের দর্শন।

    এই বই পড়লে তুমি বুঝবে — 
    সুগার শুধু রক্তে নয়, **জীবনেও কমাতে হয়।**


    **শীঘ্রই প্রকাশিত হতে চলেছে — “মিষ্টি নামের তিক্ত রোগ”** 
    লেখক : যোগী কৃষ্ণদেব নাথ 

    এক আত্মজাগরণের বই, এক নতুন জীবনের গল্প।


    প্রকাশের খবর সবার আগে পেতে চাইলে এখনই রেজিস্টার করো — 
    [ প্রি-অর্ডার লিংক শীঘ্রই যুক্ত করা হবে। ]

    #MistiNamErTiktorog #YogiKrishnadevNath #DiabetesAwareness #HealthTransformation #GutHealth #LifestyleHealing #Fasting #NaturalCure #SelfDiscovery

  • ত্রিপুরার রাজনীতি — ভোটের বাইরে এক সমাজচিন্তা

    ত্রিপুরার রাজনীতি মানেই শুধু ভোট, দল আর ক্ষমতার পালাবদল — এমন ভাবনা আমাদের মগজে অনেক গভীরভাবে গেঁথে গেছে। অথচ রাজনীতি তার থেকেও অনেক বড়, অনেক গভীর এক সমাজচিন্তার পরিসর।

    রাজনীতি মানে কেবল কে জিতল, কে হারল — তা নয়। রাজনীতি মানে সমাজের দিশা, মানুষের জীবনের মান, চিন্তা ও নৈতিকতার পথনির্দেশ।
    ত্রিপুরা ছোট রাজ্য, কিন্তু এখানকার মানুষের হৃদয় বিশাল। এই রাজ্যের রাজনীতি আসলে এক জীবনসংস্কৃতি — যেখানে একদিকে আছে ঐতিহ্য, অন্যদিকে আছে পরিবর্তনের স্বপ্ন। সেই পরিবর্তন কী শুধুই ক্ষমতার পরিবর্তন ? মোটেও তা না। অনেক আশা অনেক স্বপ্ন নিয়ে অনেক পরিশ্রম করে এই রাজ্যের মানুষ ২০১৮তে পরিবর্তন তো কেরেইছিল। এর পরিণতি কী হয়েছে সেটা মানুষই ভালো করে বলতে পারবে।

    আজকের তরুণ প্রজন্ম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন মানসিকতা নিয়ে। তারা প্রশ্ন করছে, তারা জানতে চাইছে — “আমাদের জীবনের মান কেন উন্নত হচ্ছে না?”
    এই প্রশ্নই রাজনীতিকে নতুন পথে নিয়ে যাচ্ছে। কারণ রাজনীতি তখনই শক্তিশালী হয়, যখন তা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মিশে যায়।

    ত্রিপুরার প্রকৃত রাজনীতি হলো —

    – যখন একজন বেকার চাকরি পায়,
    – যখন একজন কৃষক তার পণ্যের ন্যায্য দাম পায়,
    – যখন একজন ছাত্র তার শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে পারে,
    – যখন একজন রোগী চিকিৎসা পায় মানবিকতার সঙ্গে,
    – আর যখন একজন নাগরিক নির্ভয়ে নিজের মত প্রকাশ করতে পারে।

    রাজনীতি তখনই পবিত্র, যখন তা সমাজকে আলোকিত করে, বিভাজিত নয়।

    ত্রিপুরার ইতিহাসে আমরা দেখেছি — গণআন্দোলনের শক্তি সবসময়ই শাসনকাঠামোকে নাড়া দিয়েছে।
    আজও প্রয়োজন সেই গণচেতনা, সেই আত্মবিশ্বাস — যে রাজনীতির মানে শুধু নেতা নয়, আমরা প্রত্যেকেই একেকজন সক্রিয় নাগরিক।

    তাই ত্রিপুরার ভবিষ্যৎ রাজনীতি হতে হবে চিন্তার রাজনীতি, বিবেকের রাজনীতি, উন্নয়নের রাজনীতি।

    আর সেই পথেই হয়তো আমাদের রাজ্য একদিন সত্যিকার অর্থে হবে —
    এক সচেতন সমাজের ত্রিপুরা।

    (ভবিষ্যতে এই পেজ থেকে রেগুলার রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিচার বিশ্লেষণ পাবেন।)

    ✍️ Yogi Krishnadev Nath
    🌐 ykdonlin.in

    ত্রিপুরা #রাজনীতি #চিন্তা #সচেতনসমাজ #politics #tripura #socialchange #awareness

  • শরীর – এক মন্দির

    শরীর — এক মন্দির 

    প্রত্যেক মানুষের জীবনে এক অদ্ভুত যাত্রা চলছে— বাইরের ঈশ্বরকে খোঁজার। কেউ তাঁকে খুঁজছে মন্দিরে, কেউ খুঁজছে মসজিদে, কেউ বা গির্জায়। কেউ পাহাড়ের নির্জনতায় বসে ধ্যানের মাধ্যমে তাঁকে উপলব্ধি করতে চাইছে। অথচ যে মন্দিরে স্বয়ং ঈশ্বর প্রতিদিন প্রতিক্ষণ বিরাজ করেন, সেটিকে আমরা প্রায়ই অবহেলা করি। এই মন্দির হলো আমাদের নিজের শরীর।

    শাস্ত্র বলেছে, “শরীরমাদ্যং খলু ধর্মসাধনম্।” 
    অর্থাৎ, শরীরই হলো ধর্ম সাধনার প্রধান মাধ্যম। যে দেহ সচল, শুদ্ধ ও সজীব — সেই দেহেই বাস করেন ঈশ্বর। 
    এই দেহই তো দেবমন্দির, যেখানে আত্মা, প্রাণ ও চেতনা মিলিত হয়ে জীবনের উৎস সৃষ্টি করে।

    শরীরের প্রতিটি কোষ, প্রতিটি শ্বাস, প্রতিটি হৃদস্পন্দন আসলে একেকটি জপমালা। 
    যেভাবে মন্দিরে প্রতিদিন শুদ্ধিকরণ, আরতি ও প্রসাদ হয়, 
    তেমনি শরীরেরও প্রতিদিন প্রয়োজন যত্ন, শৃঙ্খলা ও শ্রদ্ধা।

    শরীরের মন্দির – বিজ্ঞানের আলোয়:

    আমাদের দেহের প্রতিটি কোষ হচ্ছে একেকটি জীবন্ত মন্দির। প্রতিটি কোষের মধ্যেই রয়েছে তার নিজস্ব শক্তি কেন্দ্র— মাইটোকন্ড্রিয়া, যা অগ্নিদেবতার মতো জ্বালিয়ে রাখে জীবনের প্রদীপ। শরীরের
    প্রতিটি স্নায়ু বহন করে চেতনার সুর, 
    আর প্রতিটি রক্তবিন্দু যেন প্রথম প্রভাতের আরতির ঘণ্টাধ্বনি।

    যখন তুমি বিষাক্ত খাবার খাও, অতিরিক্ত রাগ করো, দেরি করে ঘুমাও, তখন তুমি আসলে তোমার মন্দিরে ধুলো ফেলছো। 
    আর যখন তুমি উপবাস করো, বিশ্রাম নাও, শান্তি বজায় রাখো— 
    তখন তুমি তোমার মন্দিরকে ধূপ–ধুনোয় পরিশুদ্ধ করছো।

    বৈজ্ঞানিকভাবে, এই যত্নই আমাদের হরমোন, ইমিউন সিস্টেম, ও নিউরোট্রান্সমিটারের ভারসাম্য রক্ষা করে। 
    এই ভারসাম্যই মানুষের মধ্যে মানসিক শান্তি, আত্মবিশ্বাস ও স্থিতিশীলতা আনে। 

    আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে – দেহই ঈশ্বরের আসন:

    উপনিষদে বলা হয়েছে— “যঃ পুরুষঃ তস্য দেহং গৃহম্।” 
    অর্থাৎ, দেহই হলো সেই পরম পুরুষের গৃহ। 

    তুমি যখন নিজের শরীরকে শ্রদ্ধা করো, তখনই ঈশ্বরকে শ্রদ্ধা করছো। 
    তুমি যখন শরীরকে ক্লান্ত, অবহেলিত ও অপবিত্র রাখো, 
    তখন যেন মন্দিরের প্রদীপ নিভে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। 

    সত্যিকারের সাধনা শুরু হয় এখানেই— নিজের শরীরের ভেতরে। 
    প্রত্যেকটি শ্বাস যখন সচেতনভাবে নেওয়া হয়, 
    প্রত্যেক আহার যখন প্রণাম দিয়ে গ্রহণ করা হয়, 
    প্রত্যেক ঘুম যখন শান্তির সঙ্গে আসে— 
    তখন এই শরীরই পরিণত হয় এক জীবন্ত মন্দিরে।

    শরীরের সাত আচারের কথা:

    এই দেহমন্দিরের স্থায়িত্ব ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য প্রয়োজন সাতটি আচারের সমন্বিত সাধনা — 
    এই সপ্তাচার হলো– ভোজন, ভাণ্ডারা, প্রয়াস, উপবাস, নিদ্রা, শ্বাস ও ধ্যান।**

    যেভাবে মন্দিরে সাতটি দ্বার থাকে দেবদর্শনের জন্য, 
    তেমনি শরীরের এই সাতটি আচারই হলো দেবমন্দিরের সাতটি পথ। 
    যে ব্যক্তি এই পথগুলো নিয়মিতভাবে পালন করে, 
    তার শরীর, মন ও আত্মা এক সুরে বেজে ওঠে— 
    যেন সারেগামাপাধানির পূর্ণ সমন্বয়ে সৃষ্টি হয়েছে জীবনের মহাসঙ্গীত।

    নিজের দেহমন্দিরে ফিরে আসা:

    এই পৃথিবী নানা প্রলোভনে ভরা— 
    ফাস্টফুড, রাগ, প্রতিযোগিতা, অতিরিক্ত তথ্যের চাপ— 
    সব মিলিয়ে মানুষ নিজের ভেতরের মন্দিরকে ভুলে যাচ্ছে। 
    কিন্তু যতদিন তুমি জীবিত, ততদিন এই শরীরই তোমার একমাত্র আশ্রয়, 
    তোমার ঈশ্বর, তোমার উপাসনালয়।

    এক মুহূর্ত চুপ করে নিজের শরীরকে অনুভব করো— 
    তোমার শ্বাসের চলাচল, হৃদয়ের ধ্বনি, চোখের দৃষ্টি— 
    সবই তো জীবনের আরতি। 
    তুমি আসলে প্রতিদিন এই দেহমন্দিরেই পূজা করছো— 
    কেবল সেটা স্মরণ করতে হবে।

    যে মানুষ নিজের শরীরকে ভালোবাসতে শেখে, 
    সে কখনো অন্যকে ঘৃণা করতে পারে না। 
    যে নিজের ভিতরের মন্দিরকে পরিষ্কার রাখে, 
    তার জীবনের বাইরে কোনো অন্ধকার থাকে না।

    তাই সবসময় মনে রাখতে হবে—  তোমার শরীরই তোমার প্রথম মন্দির, 
    তোমার জীবনই সেই পূজা, 
    আর তোমার সচেতনতাই — সেই ঈশ্বর।
    নিজের দেহমন্দিরে আলো জ্বালাও, 
    ঈশ্বর তখন তোমার মধ্যেই বসবাস করবেন।