একটি উদ্ভিদের সমস্ত কিছু নির্ভর করে তার রুটে, আর একটি মানুষের সবকিছু নির্ভর করে তার গাটে। এই তুলনাটা নিছক কোনো রূপক কল্পনা নয়, বরং গভীর বাস্তব সত্য।

আমরা অভ্যাসগতভাবে শরীরকে উপরের দিক থেকে বিচার করি। মুখ, ত্বক, ওজন, ব্লাড রিপোর্ট প্রভৃতির মাধ্যমে। অথচ প্রকৃতি আমাদের শেখায় অন্য কথা। একটি গাছ যতই সবুজ হোক, ফুল যতই সুন্দর হোক, তার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় মাটির নিচে থাকা রুটের শক্তিতে। রুট দুর্বল হলে গাছটা টিকবে না। মানুষের ক্ষেত্রেও একই সত্য প্রযোজ্য।

মানুষের গাট শুধু হজমের জায়গা নয়। এখান থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয় ইমিউনিটি, হরমোন, মেটাবলিজম, এমনকি মুড ও মানসিক স্থিতি। গাট বিগড়ে গেলে তার প্রভাব পড়ে ত্বকে, ওজনে, সুগারে, ক্লান্তিতে, উদ্বেগে, সবখানে। রোগ তখন আলাদা আলাদা নামে দেখা দেয়, কিন্তু শিকড় থাকে এক জায়গায়।

আমরা রোগকে খণ্ড খণ্ড করে দেখি। ত্বকের জন্য আলাদা ডাক্তার, সুগারের জন্য আলাদা, মানসিক অস্থিরতার জন্য আরেকজন। কিন্তু শরীর এইভাবে কাজ করে না। শরীর একটি সমন্বিত ব্যবস্থা, আর তার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে গাট।

অস্বাস্থ্যকর খাবার, রিফাইন্ড চিনি, রিফাইন্ড লবণ, বাজারী তেল, ডেয়ারি প্রোডাক্ট, প্রসেসড ফুড, অপ্রয়োজনীয় ওষুধ, এসব মিলিয়ে আমরা নিজের রুট সিস্টেমটাকেই নষ্ট করে ফেলছি। তারপর উপরে উপরে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি, যেমন গাছের পাতায় রং লাগিয়ে তাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা।

একটি গাছকে বাঁচাতে হলে সার দিতে হয় রুটে। মানুষকেও সুস্থ করতে হলে ঠিক করতে হয় গাট। ফাইবার, ফার্মেন্টেড খাবার, প্রকৃত খাদ্য, সঠিক ফাস্টিং — এগুলো কোনো ট্রেন্ড নয়, এগুলো ভিত্তি মজবুত করার উপায়।

স্বাস্থ্য মানে শুধু ওজন কমা বা ব্লাড রিপোর্ট স্বাভাবিক হওয়া নয়। স্বাস্থ্য মানে ভিতরের ভিত্তি শক্ত থাকা। যার গাট ঠিক, তার শরীর অনেক ভুল সহ্য করতে পারে। যার গাট নষ্ট, তার শরীর অল্পতেই ভেঙে পড়ে। কারণ গাছের মতো মানুষও রুট থেকেই বাঁচে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More posts